CAN YOU THINK ??

 "জনসাধারন " শব্দটি  কিন্ত খুবই সাধারন , এবং খুব চেনা একটি শব্দ। সারাদিনে কতবারই না শব্দটা  শুনতে পাই আমরা। প্রতি নিয়ত নেতা  মন্ত্রী দের মুখে শুনতে পাই শব্দটি । কখনো বাসে ট্রেনে কখনো বা চায়ের দোকানে ,রাস্তা ঘটে প্রতি নিয়ত শুনতে পাই- "আমরা সাধারণ মানুষ,আমাদের কোনো দাম নেই" , আমাদের কি আর  ক্ষমতা , আমাদের কি করার আছে ।" এই সব কত কিছুই শুনতে পাই।    

সত্যিই কি আমাদের কোনো দাম নেই ? সত্যিই কি আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই ? সমাজের উচু মহলে  কি আমাদের কোনো মূল্য নেই ? আমরা কি শুধু ভোট দেয়ার জন্য ? কেনই বা বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ(আমরা ) এগুলো বলে থাকি ? নিশ্চয় তার কারণ আছে।

কোনো দিন কি আমরা আমাদের সংবিধানের চোখে নিজেদেরকে দেখেছি। সংবিধানের চোখে কিন্ত আমরা কিন্ত অনেক দামি ,আমরাই দেশের সম্পদ , এক কথায় আমরা সাধারণ মানুষ হলাম দেশের মালিক। 
কিন্ত দেশের সমাজ ব্যাবস্তা কি আমাদেরকে সেটা অনুভব করায় ?......... না। 

ভেবে দেখেছেন , আপনার বাড়ীর কাজের লোকটা যদি হটাৎ আপনার বাড়ীর প্রমান চায় , কেমন লাগবে আপনার ?
যদি দেখেন আপনার বাড়ীতে ঝাড়ু দেওয়া লোকটা আপনারই টাকায় দামি গাড়ী চড়ে আপনার বাড়ী ঝাড়ু দিতে আসছে , অথচ আপনি একটা ভাঙা সাইকেল নিয়ে কাজে যাচ্ছেন। কেমন লাগবে আপনার ?

ধরে নিন একদিন হটাৎ বাজারে গিয়ে দেখছেন আপনার বাড়ীর কাজের লোকটা  কোটি টাকার গাড়ী চড়ে আপনার বাড়ীর জন্য সবজি কিনছে আর আপনি ছেড়া চটি পরে কর্ম স্থানে যাচ্ছেন। ভালো লাগবে আপনার ? 
রাস্তায় হটাৎ দেখছেন আপনার পাড়ার রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য রাখা লোকটা একটা কোটি টাকা মূল্যের বাড়ী করে ফেলেছে অথচ আপনি মশাই মালিক হয়ে ফুটো টিনের ছোওয়া বাড়ীতে থাকেন। আপনি  তাকে বেতন বেতন দিয়ে কাজে রেখেছেন অথচ আপনার কোনো প্রয়োজনে আপনাকে তার দফতরে গিয়ে হাত জোড় করে আবেদন করতে হবে , একবারে নাহলে বার বার গিয়ে আপনার পায়ের কমদামি চটি ক্ষয় হয়ে যেতেও পারে। 

আবার তার দরকার মতো আপনার সম্পত্তি সে বিক্রিও করে দিতে পারে , আপনার কষ্ট করে সঞ্চয় করা সম্পদ তারা ইচ্ছা করলে নিজের করে নিতে পারবে , প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আমাদের চাকর দের নিরাপত্তায় খরচ হবে কিন্ত আপনি মশায় মালিক হয়ে রাস্তার ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও আপনার জন্য কোনো মাথা ব্যাথা নেই তাদের। ..

কি ... অবাক লাগছে তো ?  অবাক হবেন না ;;;;;  এটাই অবস্থা দেশের।   এবার আসুন আসল কথায়। .......

বড় বড় আমলারা কিন্ত আমাদের চাকর আর আমরা সাধারণ মানুষ তাদের মালিক ,,, কিন্ত কোনো প্রয়োজনে তাদের কাছে যেতে গেলে অনুমতি ছাড়া তো তাদের অফিসে ঢুকতে পাবেনই  না  তার পর হাত জোড় করে আপনার দরকারটা বলতে হবে , তাদের ভাব দেখলে মনে হয় তারা যেন আমাদের মালিক।  তার উপর আপনি যদি গরিব  সাধারণ  মানুষ হন তাহলে তো আপনাকে তারা  তুমি দিয়ে কথা বলবে। আর যদি পুলিশ অফিসার হয় তাহলে তো আপনাকে তুই দিয়েই কথা বলবে। 
বিভিন্ন অফিসে শুধু টাকা ওয়ালা এবং ক্ষমতা শালী লোকদের সম্মান দিয়ে কথা বলা হয়। তা ছাড়া আপনাকে গরুছাগলের মতো মনে করা হবে সেখানে।  অথচ তারা আমাদের জন্যই সেখানে আছেন।আমাদের সেবার জন্যই তাদের চাকরি।  আমাদের দেয়া ট্যাক্স এর টাকায় তারা দামি দামি গাড়ী ছোড়ে ঘুরবে কিন্ত আমরা একবার ছাড়া দুইবার কোনো কথা বললে তিনারা বিরক্ত হন। মেজাজ দেখান, যেন তারা আমাদের উপর দয়া করছে। 

এবার আসি নেতা মন্ত্রী দের কথায়। .......  নেতা মন্ত্রীরা  হচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি।  আমরা তাদের কে বেছে  নিয়েছি যে তারা আমাদের হয়ে দেশের বা আমাদের কাজ করবেন। আমরা সংসার,ঘর পরিবার , ছেলে মেয়ে , রুজি রোজগার এর কাজে ব্যাস্ত , তাই আমরা ভোট দিয়ে তাদেরকে দেশ বা সমাজ ব্যাবস্থা, আমাদের রক্ষা করার, ও নিরাপত্তার  দায়িত্ব দিয়ে থাকি।  তার জন্য আমরা ট্যাক্স দি ,,,  তাদের পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়।  কিন্ত তারা যেই পদে বসেন ,তারা তখন নিজেদেরকে  আমাদের  মালিক ভেবেবসেন। নিজেদের ভোগ  বিলাসিতায়  মেতে ওঠেন , নিজেদেরকে জনগণের চাকর বলে দাবি করলেও তাদের আচরণ ,স্বভাব মালিকের মতো হয়ে যায়। যত কষ্ট , ক্ষতি ,মেহেনত সব সাধারণ মানুষ সহ্য করবে , আর যত বিলাসিতা ,আনন্দ ফুর্তি সব তাদের জন্য। 
দেশের ক্ষয় ক্ষতি হলে সে ভর্তুকি সাধারণ মানুষকে দিতে হবে ,,  আর তারা কোটি কোটি টাকা দামি দামি গাড়ী চড়ে , দামি দামি হোটেল এ থেকে , লক্ষ লক্ষ টাকার পোশাক পরে , কোটি টাকার নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াবে আর সাধারণ মানুষ কে  দেশ ভক্তির পাঠ পড়াবে। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সাধারণ জনগণের আর তারা আমাদের রক্ত জল করা টাকায়  দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবে। আর ৫ বছর পর পর পাড়ায় পাড়ায় ,দরজায় দরজায় চাকর হবার মিথ্যে নাটক  করতে চলে আসবে। মানুষের রাত দিন এক করে  রক্ত ঘাম করা টাকায় তারা অট্টালিকায় বসবাস করে , হেলিকপ্টার ,দামি দামি শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি চড়ে তারা চাকর সেজে মিথ্যে অভিনয় করে বস্তা বস্তা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দরজায় দরজায় ভোট ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায়। 

তাহলে এখন ভাবুন আর বলুন ,,,,,,  সত্যিই কি আমরা মালিক ? আর যত নেতা ,মন্ত্রী,আমলা রা কি আমাদের চাকর?
সমাজ ব্যাবস্তা কি আমাদের কে মালিক হবার সেই অনুভব করায় ?   নাকি মন বোঝানো একটা শব্দ মাত্র ?  
নাকি দেশের জনগণ কে ঠকিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর একটা প্রক্রিয়া ?.......

কখনো শুনেছেন যে কোনো মন্ত্রী খাবারের অভাবে , বিনা চিৎসায় মারা গেছে ?  কখনো কি দেখেছেন কোনো আমলা বা  নেতার ঘরের শিশুটি পুষ্টির অভাবে মারা গেছে ?  শুনেছেন কখনো যে কোনো নেতা বা উচ্চ পদে নিযুক্ত আমলা বা মন্ত্রী ক্ষুধার তাড়নায় স্বপরিবারে আত্মহত্যা করেছে ? দেখতে পেয়েছেন কোনোদিন যে কোনো নেতা মন্ত্রীর ছেলে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে , কখনো কি কোনো মন্ত্রীর ঘরের লোক হাসপাতালে বেড পাইনি বলে , নিচে মেঝেতে তার চিৎসা চলছে ?  কখনো কি শুনেছেন যে কোনো বড় অফিসারের বাড়ীর গভবতী মহিলা  সময়ে হাসপাতাল যাওয়ার গাড়ি না পাওয়ায় রাস্তাতেই প্রসব করেছে ?//   না এসব কোনোদিন শোনেননি বা দেখেন নি।  আর কখনো শুনবেনও না.. 

কারণ দেশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা তে তারা হাত বাড়িয়ে বসে আছে। .... সব কিছু তাদের জন্যই। 

কিন্ত আমাদের দেশের অগুনতি শিশু পুষ্টির অভাবে প্রতি দিন তাদের মায়ের কোল খালি করে প্রাণ হারাচ্ছে  , প্রতি দিন হাজার হাজার  বাবা অভাবের তাড়নায় ভিক্ষা করছে।  লক্ষ্য লক্ষ্য  চাষী  রোজ আত্মহত্যা করছে। 


লক্ষ্য লক্ষ্য শিক্ষিত বেকার অভাবের তাড়নায় চায়ের দোকানে কাপ পরিষ্কার করছে , কেউ কেউ অবসাদে বিভিন্ন মরণ নেশায় নিজেকে নিমজ্জিত করে দিন দিন  শেষ হয়ে যাচ্ছে।  হাজার হাজার মা চিৎিসার অভাবে সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় বিনা বেডে পড়ে পড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে।    আর আমাদের চাকর নামক নেতা মন্ত্রী , আমলা রা ,  অফিসাররা  জনগণের  টাকায় পরিবার কে নিয়ে  দামি গাড়ী চড়ে , বড়ো বড়ো অট্টালিকায় , শপিংমলে বিলাসিতায় ব্যাস্ত। ......

এগুলো ভেবে দেখেছেন কখনো ?/?????????  

  প্রশ্ন টা  সত্যি খুবই  স্বাভাবিক। ...  আমরা কি আসলেই মালিক?  নাকি আমাদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে। 
আপনাদের কি  এরকম প্রশ্ন মনে জেগেছে কোনোদিন ?  
 অবশ্যই  কমেন্ট করে জানাবেন। .....................                                  
                                                                                                          ধন্যবাদ। 


Comments

Popular posts from this blog

মাত্র কয়েকটি অভ্যাস বদলে দিন। দ্রুত শরীরের চরবি কমে যাবে।

সহজে ঘুম আসে না? জেনেনিন এই কৌশল, মাত্র ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন।

চুল পড়া সমস্যা? ঘরোয়া উপায়। যে কোনো একটি নিয়ম পালন করুন।