বাবার কথাটা হয়তো আমরা ভুলে যায়

"বাবা" নামটি আমাদের সবার চেনা, জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা অংশ... কিন্তু এই চেনা নাম টিকে আমরা চকচকে ঝকঝকে,বাহবা আকাঙ্খিত, উচ্চ শিক্ষিত,ব্যাস্ত এবং আধুনিক সমাজে অচেনা, অপ্রয়োজনীয় করে তুলছিনা তো?? কেমন যেন স্বার্থপর হয়ে উঠছি আমরা...



এখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবিত সমাজের অংশ. আমরা খাবারের চেয়ে like,comment,share গুলিকেই পুষ্টি হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি. তাই আমরা like, comment, বা প্রশংসার তাগিদে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা রাস্তাঘাটে অথবা আড্ডায় কৃতজ্ঞতা ফলাতে "মা" এর গুরুত্ব ও প্রশংসার প্রতিযোগিতায় লেগে পড়ি..
তা ভালো কথা, মায়ের কোনো তুলনা হয়না. মা তো নিঃস্বার্থে সারা জীবন ভালোবেসে যায়. মায়ের প্রশংসা তে খারাপ কিছু নেই,, মায়ের পায়ে আমাদের সর্গ একথা  অস্বীকার করার জায়গা নেই.

কিন্তু আমাদের জীবনে বাবার গুরুত্ব টাও কম নেই.
বাবা সম্পর্কে আমরা খুব কম ই শুনতে পাই.
হয়তো আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাবা নামক প্রানীটিকে ignore করে চলি. আমরা ভুলে যেতে চাই যে পুরো সমাজ টা গড়তে বাবা দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা.
 হয়তো বাবাদের এটা দুর্ভাগ্য.

ভেবে দেখেছেন, একটা বাবা তার সারা জীবন টা একটু একটু করে তার পরিবারের জন্য ক্ষয় করে দেয়. প্রতিটি মুহূর্তে তার একটাই লক্ষ্য , তার বৌ ,ছেলে মেয়ে ,তার পরিবার কিভাবে সুখে থাকবে..

কাজ করতে করতে একটু tired হলে ছেলের স্কুল, আর মেয়েকে কলেজে ভর্তির কথা মনে করে আবার সে energy পেতে সচেষ্ট হয়.

বাড়ী ফেরার পথে 2-3 কিলোমিটার রাস্তাটা তার কাছে সামান্য মনেহয় , তাই সে আটো বা টোটো তে ওঠেনা.. কারণ হেটে গেলে 20 টাকা বাঁচবে, আর তাতে অনেক গুলো ফুচকা সে বাড়ী নিয়ে যেতে পারবে, বৌ আর মেয়ে যে ফুচকা খুব ভালোবাসে, দিনের শেষে বাবার হাতে ফুচকা দেখে মেয়ে খুব খুশি হবে. সেটা দেখে বাবা নামক প্রাণীটি খুব ই আনন্দ পায়..

মাসের শেষে ছেলের টিউশন , মেয়ের কলেজের fees দিতে হবে, তাই সারা মাস একটু হাত চেপে চালাতে হয়.

পুজোর বাজারে নিজের হোক বা না হোক, বৌএর টকটকে শাড়ি টা কিনতে হবে,

জুতোর দোকানে গিয়ে নিজেকেই নিজে বলে ,,,ছেলেকে খোকাবাবু জুতো টা পরে খুব মানাবে..আমার টা ওই মুচিকে দিয়ে সেলাই করিয়ে নিলেই চকচকে হয়ে যাবে.

মেয়েকে ভালো চুড়িদার না দিলে বান্ধবীদের সাথে মণ্ডপে  মণ্ডপে ঘুরবে কিভাবে.. আমি নাহয় পরের বার নিয়ে নব..

এইভাবে প্রতিটি বাবার ত্যাগের আনন্দে কেটে যায় প্রতিটি ঈদ, বড়দিন আর পুজো পার্বন...

ভেবে দেখেছেন .. জীবনের প্রথম মেলাটি বাবার কাঁধে চেপেই দেখেছেন.
জীবনের প্রথম ব্রিজটি বাবার কাঁধে চেপেই পার হয়েছেন..
জীবনের প্রথম signal টা বাবার হাত ধরেই পার হয়েছেন..

আপনি যে ফ্যানের নিচে পড়াশোনা করেছেন সেটা  ওই বাবা নামক প্রাণীটির ঘাম ঝরানোর বিনিময়ে এসেছিলো,..

খেয়াল করে দেখবেন বাড়ীর উঠোনে থাকা সব থেকে পুরোনো চপ্পলটা বাবা নামক অসহায় প্রাণীটির..
সব থেকে পুরোনো ছাতা টি বাবা নামক ওই লোকটি   খুব আনন্দে  ব্যবহার করে..

সব থেকে পুরোনো টুথব্রাশ টা কিন্তু বাবাদেরই হয়...

লোকটি একটা বোতাম টেপা পুরোনো মডেলের ফোন ব্যবহার করলেও , ছেলে মেয়ের হাতে দামি এন্ড্রয়েড ফোনটাই থাকে..
ছেলেটা যে প্রজেক্টএর নাম করে টাকা নিয়ে net pack মেরেছে, বাবা কিন্তু সেটা জানে.. সেই জন্যই তো বাবাটা প্রতি মাসে কিনবো কিনবো করে কিন্তু সেই পুরনো ভাঙা চশমাটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে..


তাই যখন মায়ের কথা বলবেন, তখন একবার বাবা নামক অসহায় Hero টার কথাটাও মনে করবেন...

কারণ বাবারা আমাদের প্রতিটি খুশির জন্য নিজের প্রতিটি অঙ্গ প্রতিটি মুহূর্তে ক্ষয় করে চলেছে..

শুধু হাসিমুখে বাবা ডাক টি শুনে তারা যেকোনো প্রতিকূলতার সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়..

তাই বাবারা সিনেমার Hero দের থেকেও handsome ,  Real action Hero..

বাবারাই হলো আসল জীবনের হিরো..




Comments

Popular posts from this blog

মাত্র কয়েকটি অভ্যাস বদলে দিন। দ্রুত শরীরের চরবি কমে যাবে।

সহজে ঘুম আসে না? জেনেনিন এই কৌশল, মাত্র ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন।

চুল পড়া সমস্যা? ঘরোয়া উপায়। যে কোনো একটি নিয়ম পালন করুন।